‘মমতার জন্যই বিপন্ন ভারত!’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শিলিগুড়িতে বিস্ফোরক নীতিন নবীন, তুঙ্গে জিবিপি-তৃণমূল সংঘাত

বাংলার অনুপ্রবেশ সমস্যা এখন আর কেবল একটি রাজ্যের বিষয় নয়, বরং তা গোটা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সুকনার একটি হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি দাবি করেন, বাংলার সরকারের মদতেই সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
নীতিন নবীনের অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে মানুষ এনে এরাজ্যে বসাচ্ছে তৃণমূল সরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের কে জায়গা দিল? কে কাজ দিল? ভারতের হিন্দু হোক বা মুসলমান, প্রত্যেকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, কিন্তু বিদেশিদের হাতে দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।” অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতাকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সামান্য জমিও দেয়নি রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীকে আমার প্রশ্ন, আপনি আসলে কাদের পক্ষে? এই নির্বাচন কেবল বাংলার জন্য নয়, এটি দেশকে সুরক্ষিত করার লড়াই।”
এদিন শিলিগুড়ির এই বৈঠকে শঙ্কর ঘোষ, নীরজ জিম্বা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন নীতিন নবীন। সূত্রের খবর, বৈঠকে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ও গোর্খাল্যান্ডের দাবি নিয়ে সরব হন পাহাড়ের প্রতিনিধিরা। ১১টি জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতির দাবিও জানানো হয়। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নীতিন বলেন, ১৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং চা আজ ধ্বংসের মুখে, অথচ সেমিকন্ডাক্টর হাবের মতো আধুনিক শিল্প এরাজ্যে আসছে না। পাহাড় ও ডুয়ার্সের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে এবং দ্রুত সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সাংসদ রাজু বিস্তাও।