‘আমি বাংলাদেশি নই!’ বীরভূমে শাহেনশাহ মিঠুন ও ফড়নবিশের রথযাত্রার আগেই পোস্টার যুদ্ধ, নেপথ্যে কি তৃণমূল?

বীরভূমের মাটি এখন রাজনীতির রণাঙ্গন। একদিকে যখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর হাত ধরে বিজেপির ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’র সূচনা হতে চলেছে, ঠিক তার আগেই জেলা জুড়ে পড়ল রহস্যময় পোস্টার। কালো রঙের সেই সব পোস্টারে বড় বড় হরফে লেখা— “বিজেপি, স্পষ্ট করে বলছি আমি বাঙালি, আমি ভারতীয়, আমি বাংলাদেশি নই।” সোমবার সকাল থেকেই রামপুরহাট, নলহাটি ও তারাপীঠ এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে এই পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন হাঁসন বিধানসভা থেকে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে, তখন স্থানীয় স্তরে এই ‘বাঙালি বনাম বাংলাদেশি’ ইস্যু গেরুয়া শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জেলায় ক্ষোভ চরমে। উল্লেখ্য, খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ নাম কাটা গিয়েছে। এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ঝুলছে। এই আবহে বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালি বিবির ঘটনাটি ঘৃতাহুতি দিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক করা হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি দেশে ফিরেছেন, যদিও তাঁর স্বামী আজও বাংলাদেশে বন্দি।
এই পোস্টার বিতর্কে সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। বীরভূম জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দীপক দাস বলেন, “তৃণমূল প্রথম থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে এবং মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। এই সব পোস্টার দিয়ে লাভ হবে না।” যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মিঠুন চক্রবর্তী ও সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই রথযাত্রার জৌলুস কমাতে এবং এনআরসি-আতঙ্ক উসকে দিতেই এই কৌশলী পোস্টার লাগানো হয়েছে। এখন দেখার, এই পোস্টার যুদ্ধের প্রভাব বিধানসভা ভোটের বৈতরণী পার করতে কোন দলকে সাহায্য করে।