ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ বিভীষিকা! দুবাইয়ে আটকে যোধপুরের ১২০ তীর্থযাত্রী, প্রাণ বাঁচাতে মোদী সরকারের আর্জি সন্তের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্র। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সাধারণ ভারতীয়দের জীবনে। সুদূর দুবাইয়ের মাটিতে এখন কার্যত বন্দি রাজস্থানের যোধপুরের প্রায় ১২০ জন তীর্থযাত্রী। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ভারত সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সন্ত অমৃতরাম মহারাজ।

জানা গিয়েছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি যোধপুরের সুরসাগর এলাকার রামদ্বারার সন্ত অমৃতরাম মহারাজ এবং সন্ত রামপ্রসাদ মহারাজের নেতৃত্বে এই বিশাল দলটি দুবাই পাড়ি দিয়েছিল। সেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘শ্রী রাম কথা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ভিনদেশের মাটিতে ভক্তিগীতি ও রামকথার এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন কয়েকশো প্রবাসী ভারতীয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ করে গত শুক্রবার যখন মাণ্ডোর ও সুরসাগর এলাকার এই ভক্তরা দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখনই শুরু হয় আসল বিপর্যয়।

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মিসাইল হামলার জেরে নিরাপত্তার খাতিরে একের পর এক বিমান বাতিল করা হয়। বিমানবন্দরের ভেতরেই আটকে পড়েন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ ১২০ জন তীর্থযাত্রী। সন্ত অমৃতরাম মহারাজ দুবাই থেকেই এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “আকস্মিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সব উড়ান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সাথে থাকা ভক্তদের অনেকেরই আর্থিক সংগতি সীমিত। তাঁরা অল্প কয়েকদিনের জন্য এসেছিলেন, এখন হোটেলের অতিরিক্ত ভাড়া মেটানো বা দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বর্তমানে এই তীর্থযাত্রীরা দুবাই ও আবুধাবির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় পরিচিতদের সহায়তায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও, যুদ্ধের আতঙ্কে তাঁদের মানসিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অন্যদিকে যোধপুরে থাকা তাঁদের পরিবারগুলোও চরম উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছে। সন্ত মহারাজ ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যাতে অবিলম্বে বিশেষ উদ্ধারকারী বিমান পাঠিয়ে এই আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ১২০ জন নাগরিকের জীবন বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।