খামেনেইর বংশপ্রদীপ কি নিভে গেল? মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় সপরিবারে খতম ইরানের সর্বোচ্চ শাসক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের ধোঁয়ায় ঢাকা। যে যুদ্ধের আশঙ্কা সারা বিশ্ব করছিল, তা এখন এক চরম ও নৃশংস রূপ নিয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রেহাই পেল না চিকিৎসাকেন্দ্রও। রয়টার্স সূত্রে খবর, উত্তর তেহরানের বিখ্যাত গান্ধী হাসপাতালে ভয়াবহ এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আসবাব ও ধ্বংসস্তূপ। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে।
সপরিবারে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেই পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত এটি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। শুধু তিনি নন, এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতনিরও। এমনকি খামেনেইর পর যিনি ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হতে পারতেন, সেই মেজ ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তেহরানে খামেনেইর নিজস্ব কম্পাউন্ডটি এখন স্রেফ এক স্তূপীকৃত জঞ্জাল।
নেতানিয়াহুর অপারেশন ‘লায়ন্স রোর’ শনিবার সকালে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে শুরু হয় অপারেশন ‘লায়ন্স রোর’। মার্কিন গোয়েন্দারা খবর পেয়েছিলেন যে খামেনেই তাঁর নিরাপত্তা পরিষদের পরামর্শদাতা আলি শামখানির সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে বসতে চলেছেন। প্রথমে শোনা গিয়েছিল বৈঠকটি সন্ধ্যায় হবে, কিন্তু ইজরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন খামেনেই সকালেই বৈঠকে বসছেন। দেরি না করে ইজরায়েলের ফাইটার জেট থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, বৈঠকের পর খামেনেই কোনো নিরাপদ বাঙ্কারে লুকিয়ে পড়তে পারেন, তাই সেই সুযোগ আর দেওয়া হয়নি।
লেবাননেও মৃত্যুমিছিল ইরানের পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতও এখন রণক্ষেত্র। হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ইজরায়েলের মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে এপর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইরানের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বার্তার মাঝে বিশ্ব এখন এক তৃতীয় মহাযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।