‘বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামান, দিল্লি থেকে মোদী সরকার হঠাব!’ ছাব্বিশের মঞ্চ থেকে হুঙ্কার অভিষেকের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নজরুল মঞ্চে ‘তপসিলির সংলাপ’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে তিনি এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দাবি করেছেন। অভিষেকের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যদি বিজেপিকে ৫০টি আসনের নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দিল্লিতে মোদী সরকারের পতন ঘটবে।
তপসিলি ভোট ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ শান রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি সংরক্ষিত আসনের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিষেক বলেন, আগামী দুই মাস কর্মীদের বাড়িতে বসে থাকার সময় নেই। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে দলিত ও তপসিলিদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কাহিনী সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল সরকার তপসিলি মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা অর্থাৎ বছরে ২০,৪০০ টাকা দিচ্ছে, যা পাঁচ বছরে ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
ভোটার তালিকা (SIR) নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা স্থগিত রাখা ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, “এই ৬০ লক্ষ মানুষ যদি ভোটার তালিকায় না থাকেন, তবে তাঁদের ভোট নিয়ে জেতা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকবেন না?” তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে এই ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেখাক বিজেপি। বাংলার মানুষ মে মাসেই এদের যোগ্য জবাব দেবে।
বিজেপির রথযাত্রাকে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা রথযাত্রাকে বিদ্রূপ করে অভিষেক বলেন, “ফাল্গুন মাসে রথযাত্রা এই প্রথম শুনলাম! ৭০ জন বিধায়ক পেয়েই রথে চড়েছেন, বেশি পেলে তো চারতলা রথ বানাতেন।” কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর রসিকতা, রথ গেলে বিজেপি নেতাদের মাছ-মাংস খাইয়ে আপ্যায়ন করতে। তবে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রথ যত্ন করে রাখুন, ওটাতেই আপনাদের ফিরে যেতে হবে। উল্টো রথ শুরু হবে ছাব্বিশেই।” ২৫০ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার বিষয়ে তিনি ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।