‘প্রার্থী হব না, তবে ফ্যাসিবাদ রুখবই!’ বুদ্ধবাবুর জন্মদিনে তৃণমূল-বিজেপিকে কড়া আক্রমণ জহর সরকারের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার। রবিবার আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি কোনো দলের প্রার্থী হচ্ছেন না। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি রাজনীতির এক ‘বিকল্প’ ভাবনার ডাক দিলেন।
বুদ্ধবাবুর সঙ্গে তুলনা ও বর্তমান প্রশাসন: এদিন ‘বাংলার পুনরুত্থান এবং বিকল্পের ভাবনা’ শীর্ষক সভায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন জহর সরকার। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “বুদ্ধবাবুর সঙ্গে অনেক বিতর্ক হয়েছে, রাগারাগি হয়েছে। কিন্তু পরদিন তিনি নিজেই ডেকে নিতেন। আর এখনকার দিনে সেরকম বিতর্ক করলে তো সরাসরি সন্দেশখালি পাঠিয়ে দেওয়া হত।” তাঁর এই মন্তব্য নবান্নের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরজি কর ও বিকল্প রাজনীতি: আরজি কর আন্দোলন প্রসঙ্গে জহর সরকার বলেন, “মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ আছে, না হলে এত মানুষ রাস্তায় নামতেন না। তবে কেউ কেউ ভয় পাচ্ছেন যে সরকার চলে গেলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সরকার বদলালে জনপরিষেবা বন্ধ হয় না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে আগ্রহী নন এবং কোনো নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়াবেন না। তবে ফ্যাসিস্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বামেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বিমান বসু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নকে পাথেয় করে বাংলায় বামপন্থার পুনরুত্থানের ডাক দেন। সেলিম অভিযোগ করেন, “তৃণমূল ও বিজেপি বাংলার যুবদের শিল্পায়নের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে।” এদিন প্রমোদ দাশগুপ্ত ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বুদ্ধদেবের নামে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা ‘সেন্টার ফর কালচার’ গড়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে, বামেদের মঞ্চে জহর সরকারের উপস্থিতি এবং দুই ফুল শিবিরের প্রতি তাঁর তোপ ২০২৬-এর আগে নয়া বিতর্কের জন্ম দিল।