ভোটের মুখে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বিজেপির! ক্ষমতায় এলেই ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বেতন কমিশন (Pay Commission) ইস্যু। একদিকে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ, অন্যদিকে বিজেপির ‘মেগা’ প্রতিশ্রুতি— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ নবান্ন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পরেও রাজ্য সরকারের নীরবতা নিয়ে যখন ক্ষোভ বাড়ছে, ঠিক তখনই ‘বিকশিত বাংলা’র প্রচারে বড় ঘোষণা করল বিজেপি।

বিজেপির ৪৫ দিনের গ্যারান্টি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি সংবলিত বিজ্ঞাপনে বিজেপি সাফ জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করবে। বর্তমানে রাজ্যের কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে বেতন পাচ্ছেন। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় হারে বেতন এবং বকেয়া ডিএ মিটিয়ে বাংলার সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে।

৫০ শতাংশ ডিএ-র দাবি ও আদালত অবমাননা: কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, তারা আর ২৫ শতাংশে থামবেন না। এবার দাবি হবে সরাসরি ৫০ শতাংশ ডিএ। ইতিধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্মচারী নেতাদের দাবি, ৩১ মার্চের মধ্যে কিস্তিতে হোক বা একলপ্তে— রাজ্য সরকারকে প্রাপ্য মেটাতেই হবে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, “এই সরকারকে ডিএ দিয়ে তবেই বিদায় নিতে হবে।”

তীব্র হচ্ছে আন্দোলন: বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এর আগেই ‘কালীঘাট চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল কর্মচারী সংগঠনগুলো, যা ধর্মতলায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এবার সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে আগামী ১৩ মার্চ বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় একদিকে আইনি চাপ, অন্যদিকে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি— এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শেষ পর্যন্ত কী কৌশল নেয়, এখন সেটাই দেখার।