‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন রাজনাথ!’ আমতায় বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত। ‘পরিবর্তন যাত্রা’র অঙ্গ হিসেবে আমতায় আয়োজিত হাইভোল্টেজ জনসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিশেষত, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পাশে বসিয়ে শমীক যেভাবে মমতার পুরনো এনডিএ-সফরের কথা টেনে আনলেন, তা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

রাজনাথ ও মমতার সেই অতীত: এদিন আমতার মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, মেট্রো চ্যানেলে ধরনার যে ‘নাটক’ আজ তৃণমূল নেত্রী শুরু করতে চলেছেন, তা নতুন কিছু নয়। শমীকের কথায়, “সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় ধর্মতলার সেই অন্ধকার গলিতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন এই রাজনাথ সিং-ই তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূল একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানির হাত ধরে পথ চলেছিল এবং বিজেপিকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিল।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ: শমীক আক্ষেপের সুরে বলেন, “যাঁরা একসময় বিজেপির সমর্থনে কংগ্রেস ভেঙে দল গড়েছিলেন, আজ তাঁদের হাতেই আমাদের কর্মীরা খুন হচ্ছেন, বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি জ্বলছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপি পিছু হটার দল নয়। “আমরা এখানে থাকতে এসেছি, চলে যেতে আসিনি,”— এই হুঙ্কারেই আমতার জনতাকে উদ্বেলিত করেন তিনি।

রাজনাথ সিংয়ের ‘পরিবর্তন’ হুঙ্কার: শমীকের বক্তব্যের পর পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি সরাসরি পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বলেন, “বাংলার উৎসাহ বলে দিচ্ছে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। টিএমসির অত্যাচার আর সহ্য করা হবে না।” রাজনাথ দাবি করেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের গতি কেউ আটকাতে পারবে না এবং প্রগতির এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

আমতার এই সভা থেকে বিজেপি নেতৃত্ব পরিষ্কার করে দিল যে, আসন্ন নির্বাচনে তারা একদিকে যেমন তৃণমূলের ‘অতীত’ নিয়ে আক্রমণ শানাবে, অন্যদিকে তেমনই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পরিবর্তনের হাওয়াকে আরও জোরালো করবে।