ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আগুনে কি পুড়বে পকেট? অশোধিত তেলের দামে অগ্নিগর্ভ বাজার, বড় বিপদের সঙ্কেত ভারতের জন্য!

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সরাসরি সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ এখন বিশ্ব তেলের বাজারে। এই অস্থিরতার জেরে অশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শক্তি নীতি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা সোমবার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সাময়িক অস্থির হলেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁর মতে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের লক্ষ্য পূরণ করে কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটলে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো ‘হরমুজ প্রণালী’। ভারত যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার প্রায় ৬০ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। রবিবার ওই এলাকায় একটি তেলের জাহাজে ইরানের হামলার পর থেকেই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ। তানেজার মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েল এমনভাবে তাদের রণনীতি সাজিয়েছে যাতে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সংকট তৈরি না হয়। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখাচ্ছেন ব্যাঙ্কিং ও বাজার বিশেষজ্ঞ অজয় বাগ্গা। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০-২২ মিলিয়ন ব্যারেল) তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে সামান্য বাধাও বিমার প্রিমিয়াম এবং মালবাহী খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বাগ্গার পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সামুদ্রিক পরিবহণ পুরোপুরি থমকে যায়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD) জিডিপির ০.৪-০.৫ শতাংশ বেড়ে যায় এবং কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) বা মুদ্রাস্ফীতি ৩০-৪০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ২০২৬ সাল থেকে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—বিনিয়োগকারীরা যেন রিয়েল অ্যাসেট এবং পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের দিকে নজর দেন।