‘সাপের মুণ্ডচ্ছেদ করেছি!’ ইরানি রিভলিউশনারি গার্ডসের সদর দফতর গুঁড়িয়ে দিয়ে হুঙ্কার আমেরিকার

ইরানের প্রতাপশালী ‘ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর দর্প চূর্ণ করে দিল মার্কিন সেনা। সোমবার আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তাদের বিধ্বংসী হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে IRGC-র সদর দফতর। মার্কিন সেনার ভাষায়, গত ৪৭ বছর ধরে হাজার হাজার আমেরিকান নাগরিকের হত্যার জন্য দায়ী এই বাহিনীর ‘মুণ্ডচ্ছেদ’ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছে, এক সময়ের দুর্ভেদ্য এই ইমারত এখন কেবলই ধোঁয়ায় ঢাকা ধ্বংসস্তূপ।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণে কার্যত দিশেহারা ইরান। ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই, সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং খোদ রিভলিউশনারি গার্ডসের প্রধান। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যে নীতি-পুলিশি ও দমনপীড়নের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, মার্কিন হামলায় তার ভিত নড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে খামেনেই-বিরোধী আন্দোলনে ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যার বদলা নিতেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সেনা সূত্রে খবর, অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোম্বার ব্যবহার করে ইরানের প্রায় এক হাজারেরও বেশি সামরিক নিশানায় হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের আকাশে এখন কেবলই বারুদের গন্ধ। যে যুব প্রজন্ম এতদিন এই বাহিনীর দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব হয়েছিল, তাদের কাছে এই ঘটনা এক অভাবনীয় মোড়। তবে খামেনেই-পরবর্তী ইরানে এই যুদ্ধের দামামা কতদূর গড়ায় এবং ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।