‘খামেনেই খতম, এটাই স্বৈরাচারের অন্ত!’ উল্লাসিত ইরানের যুবরাজ রেজা পাহলভি, এবার কি তখতবদল?

ইরানের আকাশ এখন বারুদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর সেই ধোঁয়ার মাঝেই নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের সূর্যোদয় দেখছেন নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘বর্তমান শাসনের শেষের শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। পাহলভির দাবি, এই ঘটনা ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য তাঁদের হারানো দেশ ফিরে পাওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাহলভি এই সামরিক অভিযানকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, খামেনেইয়ের প্রয়াণে ইরানজুড়ে এবং বিদেশের মাটিতে থাকা ইরানিদের মধ্যে যে উল্লাস দেখা যাচ্ছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে মানুষ এই দিনটির জন্যই বছরের পর বছর অপেক্ষা করছিল। তিনি বলেন, “কোনো সন্দেহ নেই যে পরিস্থিতি বদলানোর জন্য আমরা এটাই চেয়েছিলাম। এই ঘৃণ্য শাসনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ এখন প্রশস্ত।” পাহলভি যুক্তি দেন যে, এবারের হামলা কেবল পরমাণু কর্মসূচি রোখার জন্য ছিল না, বরং এটি সরাসরি শাসকগোষ্ঠীর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের পতনকে কয়েক গুণ ত্বরান্বিত করেছে।
নির্বাসিত এই রাজকুমার আরও জানান, তিনি ইরানে এক আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। বর্তমান ধর্মতান্ত্রিক ও কট্টরপন্থী ব্যবস্থা ভেঙে একটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। পাহলভি দাবি করেছেন, দেশের অভ্যন্তরে থাকা আন্দোলনকারী এবং সেনাবাহিনীর একাংশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি একটি বৈচিত্র্যময় জোট তৈরি করেছেন যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা শামিল হয়েছেন। উল্লেখ্য, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান যেভাবে আরব দেশগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে, পাহলভি তাকে ‘ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এখন দেখার, খামেনেই পরবর্তী ইরানে রেজা পাহলভির এই ‘গণতান্ত্রিক স্বপ্ন’ কতটা বাস্তবায়িত হয়।