ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ: খামেনেইয়ের পর খতম উত্তরসূরি মোজতবাও! ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি—’সারেন্ডার করো নয়তো মৃত্যু’

পশ্চিম এশিয়ায় এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা আর বারুদের গন্ধ। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এবার আরও বড় খবর সামনে এল। সূত্রের খবর, খামেনেইয়ের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত তাঁর মেজ ছেলে মোজতবা খামেনেইও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া দাবি করছে, খামেনেইয়ের পর মোজতবাই ছিলেন পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। এই মৃত্যুর খবর আসতেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় ইরানি সেনাবাহিনীকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “হয় আত্মসমর্পণ করুন, নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকুন।” ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ অভিযান এখানেই থামবে না। ইরান যদি পাল্টা আঘাত করে, তবে এমন প্রত্যাঘাত করা হবে যা এর আগে বিশ্ব চাক্ষুষ করেনি। এদিকে, ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তাদের হাইপারসনিক মিসাইলের নিশানায় এখন ইজরায়েল ও আরবের মার্কিন ঘাঁটিগুলো। দুবাই, কাতার, বাহারিন এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতে ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়েছে লেবাননেও। বেইরুট জুড়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। ইজরায়েলের দাবি, হিজবুল্লার হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আবু ধাবির পোর্ট জায়েদে আকাশছোঁয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছে, যা ইরানের বিধ্বংসী আক্রমণের প্রমাণ দিচ্ছে। বাহারিনে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ রেডার সেন্টার উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। সব মিলিয়ে, খামেনেই বংশের পতন এবং ট্রাম্পের রণংদেহী মেজাজ গোটা বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরি, যা যে কোনও মুহূর্তে বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।