খামেইনি নিহত! রণক্ষেত্র পাকিস্তান থেকে কাশ্মীর, কলকাতায় মার্কিন দূতাবাসে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয় ঘটে গিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি সহ একাধিক শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার খবরের পরেই শনিবার সকালে এই বিধ্বংসী হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার এবং সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই আবহে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন আছড়ে পড়ছে ভারতের রাজপথেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল লালবাজার।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন। শেক্সপিয়ার সরণি এলাকায় অবস্থিত এই কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) এবং আর্মড পুলিশ বাহিনীকে সেখানে মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয় থানাকে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে এবং নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার ধর্মতলা থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মাঝপথেই তা আটকে দেয়। এরপরেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে লালবাজার পুরো এলাকাটিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে।

প্রতিবাদের আগুন শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে খামেইনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছে। করাচি সহ একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রবিবারে ইরানি সমর্থকরা মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভারতের কাশ্মীর উপত্যকাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শ্রীনগর, লাদাখ, অনন্তনাগ ও পুলওয়ামায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার উপত্যকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোটা বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে, যার আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে কলকাতার রাজপথ থেকে করাচির অলিগলিতে।