যুদ্ধে জ্বলছে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয়দের বাঁচাতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে মোদী সরকার?

অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবর আসতেই যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। পাল্টা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা শুরু করেছে ইরান, এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীও

এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতের নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে তড়িঘড়ি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (CCS) বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোদীর নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক: নজরে ভারতীয়দের সুরক্ষা

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হওয়া ভয়াবহ হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে কীভাবে ভারতীয়দের সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন সিসিএস কমিটির সদস্যরা। সরকার জানিয়েছে, নাগরিকদের উদ্ধারে সমস্ত রকম কূটনৈতিক রাস্তা খোলা রাখা হচ্ছে।

UAE-এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে মোদী

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও (UAE) এই যুদ্ধের আঁচ থেকে মুক্ত নয়। সেখানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি সেদেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভারতীয়দের সুরক্ষায় কোনো খামতি যাতে না থাকে, সেই অনুরোধই জানিয়েছেন তিনি।

অর্থনৈতিক সংকটের মেঘ: বাড়তে পারে তেলের দাম

ভারতের জন্য এই যুদ্ধ শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও বটে।

  • জ্বালানি সংকট: ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮০% জ্বালানি আমদানি করে, যার সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

  • হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় তেলবাহী জাহাজগুলি আটকে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • বিকল্প পথ: বৈঠকে যুদ্ধের ফলে ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় বিকল্প রাস্তা খোঁজার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেরুকরণ

ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো শক্তিধর দেশগুলো। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভারতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে— ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে শতাধিক আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে।

একদিকে খামেনেই-এর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন, আর অন্যদিকে নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের তোড়জোড়— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত বারুদের স্তূপ। ভারত সরকার পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।