ইরানের মসজিদের চূড়ায় ‘লাল পতাকা’! যুদ্ধের সংকেত না কি চরম প্রতিশোধ? কাঁপছে বিশ্ব

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। শোকের আবহ ছাপিয়ে এখন সেখানে যুদ্ধের দামামা। আর সেই উত্তেজনার পারদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল পবিত্র জামকারান মসজিদের চূড়ায় ওড়ানো ‘লাল পতাকা’। শিয়া ঐতিহ্যে এই লাল পতাকা হলো অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্তের বদলা বা ‘চরম প্রতিশোধের’ প্রতীক। কোম শহরের এই মসজিদের গম্বুজে লাল নিশান ওড়ানোর অর্থ হলো—ইরান এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে “ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তির প্রয়াণ” বলে অভিহিত করেছেন এবং ইরানি জনগণকে শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খামেনেইকে ‘ইরানি অক্টোপাসের প্রধান’ আখ্যা দিয়ে একে এক নতুন ভোরের সূচনা বলেছেন।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় রদবদল শুরু হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি এই পরিষদে নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। একদিকে লাল পতাকার হুঙ্কার আর অন্যদিকে নেতৃত্বের রদবদল—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অনিশ্চয়তার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।