মধ্যপ্রাচ্যে রণক্ষেত্র! মাথার ওপর দিয়ে উড়ছে মিসাইল, ঘর ছাড়ছেন প্রবাসীরা: ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা

ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক রণক্ষেত্র। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানে বসবাসরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী। প্রতি মুহূর্তে মোবাইলে বাজছে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট, কানে আসছে সাইরেনের বিকট শব্দ, আর চোখের সামনে দিয়ে আকাশ চিরে চলে যাচ্ছে বিধ্বংসী মিসাইল। ডয়চে ভেলের বরাতে উঠে এসেছে প্রবাসীদের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

কাতারে আতঙ্কের প্রহর: কাতারের রাজধানী দোহায় ফুড ডেলিভারি কর্মী নাজমুল তালুকদার জানান, শনিবার দুপুর থেকেই শুরু হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’। আকাশে ঘন ঘন বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। সানায়া নামক এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। প্রবাসীরা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: মানামায় কর্মরত মোহাম্মদ হোসেন কাজী জানান, তিনি নিজের চোখের সামনে দিয়ে ইরানি মিসাইল উড়ে যেতে দেখেছেন। মূলত মানামায় মার্কিন নৌবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা প্রতিহত করার সময় আকাশে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রবাসীরা প্রাণভয়ে ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

দুবাই ও আবুধাবিতে উত্তেজনা: সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরাও নিরাপদ নেই। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ, বুর্জ খলিফা এবং জাবেল আলী বন্দরের কাছে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আবুধাবির আল দাপরা এয়ারবেজের কাছে থাকা প্রবাসীরা জানিয়েছেন, ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহতের শব্দে বুক কেঁপে উঠছে তাদের। এমনকি অফিসের খুব কাছেও ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

কুয়েতে বাংলাদেশি আহত: কুয়েতে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওমান ও জর্ডানেও সাইরেনের শব্দে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রবাসীদের স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কয়েক লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।