জেড্ডায় রেড অ্যালার্ট, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্বামী! দুই সন্তানকে নিয়ে রায়গঞ্জে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী!

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ইরান ও ইজরায়েলের এই বিধ্বংসী যুদ্ধের আঁচ এবার এসে পড়ল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। কর্মসূত্রে সৌদি আরবের জেড্ডায় থাকা রায়গঞ্জের বীরনগরের জামাতা শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সেখানে কার্যত বন্দি। শনিবারের পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্ত্রী মৌমিতা ও তাঁর দুই ছোট সন্তানের।
শুভজিৎ পেশায় খড়্গপুরের বাসিন্দা হলেও ১১ মাস আগে জেড্ডায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজে যোগ দেন। আগামী ২ মার্চ তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল, টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের জেরে এয়ার ইন্ডিয়া-সহ একাধিক বিমান সংস্থা উড়ান বাতিল করায় তাঁর ফেরা এখন অনিশ্চিত। মৌমিতা জানান, শনিবার শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। শুভজিৎ জানিয়েছিলেন, পাশের রাজ্যেই হামলা হয়েছে এবং সেখানে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই শেষ কথা, তারপর থেকে ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া—কোথাও শুভজিতের আর কোনো হদিস মিলছে না।
রায়গঞ্জে বাবার বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে মৌমিতার। ছোট দুটি শিশু বাবার ফেরার পথ চেয়ে বসে আছে, কিন্তু ফোনের ওপার থেকে আসছে না কোনো উত্তর। শুভজিতের শাশুড়ি তথা স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর কল্পিতা মজুমদার জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে। ভারত সরকারের কাছে মৌমিতার একটাই আর্তজি, “ওখানে যারা আটকে আছে, দ্রুত তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।” রায়গঞ্জের এই পরিবারের মতো আরও হাজারো ভারতীয় পরিবার এখন প্রিয়জনের ফেরার আশায় প্রহর গুনছে।