আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ফুঁসছে পাকিস্তান! দূতাবাসে ভাঙচুর, পুলিশের গুলিতে ১০ জনের মৃত্যুতে রণচণ্ডী মেজাজ!

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর আঁচ এবার আছড়ে পড়ল প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে। শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে করাচি। রবিবার করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় হাজার হাজার উন্মত্ত বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
শনিবার থেকেই খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে করাচির রাস্তায় জড়ো হতে শুরু করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। রবিবার সকালে সেই বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। জনতা মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, রবার বুলেট এবং শেষে আসল গুলি চালায় বলে অভিযোগ। করাচির সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসক সুমাইয়া সৈয়দ নিশ্চিত করেছেন যে, ১০টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগের শরীরেই বুলেটের ক্ষত রয়েছে। এছাড়া ৩০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন।
সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লঙ্গার এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, জনতা অত্যন্ত হিংস্র হয়ে উঠেছিল এবং কনস্যুলেটের অ্যাম্বুলেন্সগুলিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা করাচি, লাহোর এবং পেশোয়ারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে কনস্যুলেট সংলগ্ন এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। খামেনেইর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিয়া সংগঠনগুলির এই প্রতিবাদ এখন গোটা পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।