অনুব্রত-অনুগামীর নামে পোস্টার ঘিরে শোরগোল! হাঁসন বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরে কি বিদ্রোহের সুর?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজার আগেই বীরভূমে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হলো চরম অস্বস্তি। জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হাঁসনে এবার ‘সংখ্যালঘু প্রার্থী’র দাবিতে পোস্টার ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বীরভূম জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র তথা অনুব্রত মণ্ডল ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের ঘনিষ্ঠ অনুগামী জামশেদ আলি খানকে প্রার্থী করার দাবিতে রাতারাতি ছেয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। পোস্টারে সাফ লেখা— “হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সংখ্যালঘু প্রার্থী চাই।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব কার্যত রক্ষণাত্মক মেজাজে। খোদ জামশেদ আলি খানও এই পোস্টার বিতর্কে যথেষ্ট অপ্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “দল যাকে ঠিক করবে তিনিই প্রার্থী হবেন। কে বা কারা আবেগের বশবর্তী হয়ে এই কাজ করেছে তা জানি না, তবে আমি নিজেও এই ঘটনায় অস্বস্তিতে আছি।” উল্লেখ্য, হাঁসন কেন্দ্রে বর্তমান বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এই এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকায়, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতেই এই কৌশলী দাবি তোলা হচ্ছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই অবস্থিত সতীপীঠ তারাপীঠ। এই পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে ‘সংখ্যালঘু মুখ’ চেয়ে তৃণমূলের একাংশের এই দাবি ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা দীপক দাসের খোঁচা, “জামশেদ আলি প্রার্থী হলে ভালোই হয়, আমরাও তারাপীঠে পুজো দিয়ে ময়দানে নামব।” নির্বাচন কমিশন দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই যেভাবে বীরভূমে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বা প্রার্থী পদের দাবি প্রকাশ্যে এল, তাতে অস্বস্তি যে কেবল বীরভূমে সীমাবদ্ধ নেই, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পোস্টার বিতর্ককে কীভাবে সামলান।