অ্যালোপ্যাথির সাইড-ইফেক্টে লিভার শেষ? বাবা রামদেবের পতঞ্জলি আনল ‘প্রমাণ-ভিত্তিক’ আয়ুর্বেদিক রক্ষাকবচ!

আধুনিক জীবনযাত্রায় শরীরর সবথেকে পরিশ্রমী অঙ্গ লিভার এখন খাদের কিনারায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যালোপ্যাথিক ও সিন্থেটিক ওষুধ সেবনের ফলে ‘ড্রাগ ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ বা DILI-র শিকার হচ্ছেন কয়েক কোটি মানুষ। এই সংকটকালে ত্রাতা হয়ে সামনে এল পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ। বাবা রামদেবের দাবি, পতঞ্জলির ওষুধ কেবল বিশ্বাস নয়, বরং কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও ‘এভিডেন্স বেসড’ প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বাজারে আনা হয়েছে।

গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য: আমেরিকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩২১ জন রোগীর ওপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধ সেবনের ফলে অনেকেরই লিভার ফেলিওর হয়েছে। গর্ভাবস্থা বা হৃদরোগের ওষুধ থেকেও এই ঝুঁকি বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধানে পতঞ্জলি ল্যাবরেটরিতে তৈরি করেছে ‘লিভোগ্রিট’ ও ‘সর্বকল্প কাথ’। যা পুনর্নবা, ভূমি আমলা ও মাকয়ের মতো ভেষজ দিয়ে তৈরি।

অ্যালোপ্যাথিকে টেক্কা দিচ্ছে আয়ুর্বেদ: পরীক্ষাগারে মানুষের লিভার কোষের ওপর কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (শিল্প রাসায়নিক) প্রয়োগ করে দেখা গেছে, কোষগুলি দ্রুত মারা যাচ্ছে। কিন্তু ‘লিভোগ্রিট’ প্রয়োগ করতেই সেই মৃতপ্রায় কোষগুলো পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এমনকি অ্যালোপ্যাথির অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ ‘সিলিমারিন’-এর তুলনায় পতঞ্জলির এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ অনেক বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি গবেষকদের। এটি কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুরক্ষা দেয়।

সুরক্ষায় ১০০ শতাংশ ভরসা: অনেকের ধারণা আয়ুর্বেদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তবে OECD নির্দেশিকা মেনে ২৮ দিন ধরে উচ্চমাত্রায় (১০০০ মিলিগ্রাম/কেজি) পরীক্ষা করার পরও কোনো টক্সিক বা নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। রক্তকণিকা থেকে শুরু করে ১১৮টি ভিন্ন প্যারামিটারে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লিভোগ্রিট লিভারের ফাইব্রোসিস কমাতে এবং জন্ডিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত নিরাপদ। প্রাচীন ভারতের লুপ্তপ্রায় ভেষজ জ্ঞানকে বিশ্বমানের বিজ্ঞানের মোড়কে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন পতঞ্জলির লক্ষ্য।