জেলখাটা বিপ্লবী থেকে ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা! কীভাবে উত্থান হয়েছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের?

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ১ মার্চ ২০২৬, রবিবার ইরান সরকারিভাবে নিশ্চিত করল তাদের ‘সুপ্রিম লিডার’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুসংবাদ। মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ অভিযানে খামেনেইয়ের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় তিনি ‘ইতিহাসের সবথেকে শয়তান মানুষ’ হলেও, ইরানের একটি বড় অংশের কাছে তিনি ছিলেন ঈশ্বরের পরেই স্থান পাওয়া এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা।
মাটি থেকে উত্থান ও বিপ্লবের দিনগুলি ১৯৩৯ সালে মাশহাদের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম খামেনেইয়ের। ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ নিয়ে তরুণ বয়সেই তিনি হয়ে ওঠেন কট্টর বিপ্লবী। ১৯৬০-৭০-এর দশকে তৎকালীন শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আয়াতুল্লাহ খোমেনির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বারংবার জেল খাটেন খামেনেই। ১৯৭৯-এর ইসলামি বিপ্লবের পর তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পেতে শুরু করে।
ক্ষমতার শিখরে আরোহণ ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবনের মোড় ঘোরে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর। খামেনেই তখন শিয়া ধর্মের সর্বোচ্চ শাস্ত্রীয় মর্যাদা (মারজা)-তে না থাকা সত্ত্বেও সংবিধান সংশোধন করে তাঁকে ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে টানা ৩৮ বছর সেনা, বিচারব্যবস্থা ও কূটনীতির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর মুঠোয়।
বিতর্ক ও কঠোর শাসন খামেনেইয়ের শাসনকাল যেমন হিজবুল্লাহ বা হুথিদের মতো গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার জন্য পরিচিত, তেমনই দেশের অভ্যন্তরে দমন-পীড়নের জন্যও বিতর্কিত। ২০০৯-এর নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ থেকে ২০২২-এর মাহসা আমিনির মৃত্যু পরবর্তী হিজাব বিরোধী আন্দোলন— সবক্ষেত্রেই খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। একদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে টক্কর, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া শক্তির বিস্তার— খামেনেই ছিলেন একাধারে রণকৌশলী ও আপসহীন এক রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর প্রয়াণে এখন অনিশ্চয়তার মুখে ইরানের ভবিষ্যৎ।