তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য কি আদতে বাংলাদেশি? ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই তোলপাড় জলপাইগুড়ি!

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ঝর্ণা মণ্ডল বর্মণের নাম বাদ গেল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার পর নির্বাচন কমিশন তাঁকে ‘অবৈধ ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং সঠিক নথিপত্র ছাড়াই এদেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন।

বিজেপি প্রার্থীর থেকে তৃণমূলের সদস্য: এক রহস্যময় সফর ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে, যখন ঝর্ণা মণ্ডল বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ভোটের ঠিক আগেই নাটকীয়ভাবে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় তাঁর বাংলাদেশি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই চাপের মুখে পড়ে তিনি দলবদল করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। ঝর্ণার স্বামী রতন বর্মণ স্বীকার করেছেন যে, বিয়ের পর ঝর্ণা এদেশে আসেন এবং ২০১১ সালে প্রথম ভোটার তালিকায় নাম তোলেন।

কমিশনের কড়া পদক্ষেপ ও বিএলও-র মন্তব্য সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইআরও (ERO) ঝর্ণা মণ্ডলকে অবৈধ ভোটার হিসেবে বাতিল করেছেন কারণ তিনি নাগরিকত্বের কোনও বৈধ নথিপত্র পেশ করতে পারেননি। শুধু ঝর্ণাই নন, ওই বুথের আরও ১৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে এবং বিএলও স্বয়ং নিজের নামকেও ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রেখেছেন।

এই ঘটনায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। ঝর্ণা মণ্ডল নিজে বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেছেন।