জীবিত খামেনি! যুদ্ধের দাবানলের মাঝেই মৃত্যুর জল্পনা ওড়াল তেহরান, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ আকাশপথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু নিয়ে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তাতে জল ঢাললেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি নস্যাৎ করে আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন। দেশের পরিস্থিতি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।”
পাল্টা হামলার ছক ও ‘গোপন’ অস্ত্রের হুঁশিয়ারি বিদেশমন্ত্রী আরাগচি দাবি করেছেন, তেহরান অযথা রক্তক্ষয় চায় না, তবে আক্রান্ত হলে ছেড়ে কথা বলবে না। ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করা শুরু করেছে। বাহরিনের জুফায়ের নৌঘাঁটি থেকে শুরু করে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি— সর্বত্রই উত্তজনা তুঙ্গে। ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি, “প্রয়োজনে এমন মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।”
নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি ও কূটনৈতিক লড়াই হামলার জেরে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার মহম্মদ পাকপুরের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক মহলে চাউর হলেও, তেহরান এখনও এ বিষয়ে সরকারিভাবে নীরব। অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো উড়ান সংস্থাগুলি পশ্চিম এশিয়ায় তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। ইরান সংঘাত কমাতে আগ্রহী হলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলেই দাবি আরাগচির। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে, এই কূটনীতির লড়াই শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, সেদিকে।