ইরানে খামেনেই পরবর্তী যুগ: ‘পালাবদল হলেই শান্তি’, ইজরায়েল থেকে অকপট প্রবাসী ভারতীয়রা!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা এখন সপ্তমে। ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই ইজরায়েলে বসবাসকারী হাজার হাজার ভারতীয়র দিন কাটছে এক অদ্ভুত টানাপোড়েনে। তবে খাদের কিনারে দাঁড়িয়েও তাঁরা আশাবাদী—ইরানের শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন এলেই হয়তো ফিরবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি।
বাঙ্কারই এখন অস্থায়ী ঠিকানা তেলঙ্গানার নিজামাবাদের বাসিন্দা সোমা রবি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তেল আভিভে রয়েছেন। প্রবীণদের সেবার কাজে নিযুক্ত সোমা ফোনে শোনালেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, “আমরা আপাতত নিরাপদ। কাজও চলছে স্বাভাবিকভাবে। তবে যখনই সাইরেন বেজে ওঠে, তখনই দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়। ১০-১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি থিতু হলে আবার বেরিয়ে আসি।” বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ইজরায়েল ছেড়ে ভারতে ফেরার কথা ভাবছেন না সোমার মতো অনেকেই। তাঁদের বিশ্বাস, সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত আসবে না।
খামেনেই পরবর্তী ইরান ও শান্তির সমীকরণ সোমার মতো প্রবাসী ভারতীয়দের মতে, খামেনেইয়ের মৃত্যু মানেই তাৎক্ষণিক শান্তি নয়। ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যেভাবে ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তাতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমার কথায়, “ইরানে যদি বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে পারে, তবেই প্রকৃত শান্তি সম্ভব। এতে ইরানের সাধারণ মানুষ যেমন স্বাধীনতা পাবেন, তেমনই প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কেরও উন্নতি হবে।”
সতর্কবার্তায় নজর ও ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এবং মার্কিন শক্তির যৌথ উপস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকরা কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করলেও, বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাস প্রতিনিয়ত সতর্কবার্তা জারি করছে। ভারতীয়রা নিয়মিত সেই নির্দেশিকা মেনে চলছেন। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লিও। এখন দেখার, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কোন পথে মোড় নেয় এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির সূর্য কবে উদিত হয়।