মুসলিম বিশ্ব কি তবে বিভক্ত? ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধে কেন বারবার ‘একলা চলো’ নীতি ইরানের!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখনই ইজরায়েল বা আমেরিকার মিসাইল আছড়ে পড়ে, তখনই একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়—কেন নিঃসঙ্গ ইরান? বিশাল মুসলিম বিশ্ব থাকা সত্ত্বেও কেন সৌদি আরব, মিশর বা জর্ডানের মতো দেশগুলো সরাসরি তেহরানের পাশে দাঁড়ায় না? এই রহস্যের জট খুলতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাস, ধর্ম এবং ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে।
ধর্মীয় মেরুকরণ ও আদর্শগত ফারাক ইরানের জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি মতাদর্শী। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.)-এর প্রয়াণের পর নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা আজও প্রবহমান। ইরানের ‘ভেলায়াত-ই ফকিহ’ বা ধর্মীয় নেতার হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার দর্শন অনেক সুন্নি রাষ্ট্রই গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে আদর্শগত এই দূরত্ব রাজনৈতিক মিত্রতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরব বনাম পারস্য: জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জাতিগত পরিচয়। ইরান আরব দেশ নয়; তারা গর্বিত পারস্য বা পার্সিয়ান সভ্যতার উত্তরাধিকারী। তাদের ভাষা ফারসি, সংস্কৃতিও আলাদা। মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে কে থাকবে—আরব দেশগুলো নাকি পারস্যের ইরান? এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই গত কয়েক দশক ধরে ইরানকে একঘরে করে রেখেছে।
বাস্তব রাজনীতি ও ওয়াশিংটন ফ্যাক্টর সৌদি আরব, জর্ডান বা মিশরের মতো দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা অনেকাংশেই আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭৯-এর ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান আমেরিকার ঘোরতর শত্রুতে পরিণত হলেও, অন্য আরব দেশগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে। তাই ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় তারা সরাসরি ইরানের পক্ষ নিয়ে নিজেদের পশ্চিমা মিত্রদের চটাতে চায় না। শিয়া-সুন্নি বিভাজন, আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াই এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই জটিল মিশ্ৰণই ইরানকে বিশ্বমঞ্চে নিঃসঙ্গ করে তুলেছে।