ইরানের চরম পদক্ষেপ! বন্ধ বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’, ভারতে কি তেলের হাহাকার পড়বে?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার কড়া জবাব দিতে ইরান তাদের তুরুপের তাসটি ব্যবহার করল। শনিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ঘোষণা করেছে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রপথে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

কেন এই হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ? পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ জলপথটি হলো সৌদি আরব, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রধান ধমনী। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যাতায়াত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন ‘অ্যাসপিডস’ নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ভিএইচএফ ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো জাহাজকেই এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

ভারতের ওপর প্রভাব: সিঁদুরে মেঘ দেখছে দিল্লি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এক বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়া। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি করে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত থেকে। এই তেল পরিবহনের একমাত্র পথ হরমুজ। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মাসিক তেলের চাহিদার অর্ধেকই এই পথ দিয়ে এসেছে। এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়তে পারে।

চিনের কৌশল বদল ও রাশিয়ার ভূমিকা ইরানি তেলের বৃহত্তম খরিদ্দার চিন পরিস্থিতি আঁচ করে আগেভাগেই তাদের কৌশল বদলেছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বেজিং ইরান থেকে তেল কেনা কমিয়ে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। এই মাসে চিন প্রতিদিন গড়ে ২.০৭ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান তেল কিনেছে, যা গত মাসের তুলনায় অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের খবরের পর তেহরান এখন আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি।

Samrat Das
  • Samrat Das