বিজেপিকে সুবিধা দিতেই কি ‘ভুল’ তালিকা? ময়নাগুড়ির বিডিও-র নাম বাদ যেতেই কমিশনকে তুলোধোনা তৃণমূলের

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই চরম বিশৃঙ্খলা বঙ্গে। যে আধিকারিক নিজে নির্বাচনের কাজ পরিচালনা করছেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল তাঁর নামই! জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘ডিলিটেড’ আসায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রসেনজিৎ বাবু এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ময়নাগুড়ি বিধানসভা এলাকায় ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্ররাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ বা AERO-র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও, রহস্যজনকভাবে তাঁর নামটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিডিও নিজে বিশেষ মুখ না খুললেও, বিষয়টিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের তোপ ও ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব সাক্তন তৃণমূল সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন বিডিও পদমর্যাদার আধিকারিকের নাম যদি ভুলবশত বাদ যায়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে?” তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই অত্যন্ত ‘অঙ্ক কষে’ তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পার্থপ্রতিম বাবুর কথায়, কমিশন এখন ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’-এ পরিণত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পাল্টা লড়াইয়ের ডাক নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, নাম বাদ পড়লে পুনরায় আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে ভোটের ঠিক আগে প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের নাম বাদ যাওয়া নিছক যান্ত্রিক ভুল নাকি গভীর কোনো রাজনৈতিক চাল, তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা—যতই ‘হামলা’ বা ‘চক্রান্ত’ হোক, বাংলা আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বেছে নেবে।