ভোটের দিন ‘ছুটি’ নয়, বাংলা বাঁচাতে ‘বিপ্লব’ চান শুভেন্দু! মেগা লড়াইয়ের আগে কমিশনের কাছে বড় দাবি বিরোধী দলনেতার

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গেল বঙ্গে। প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ময়নাগুড়িতে এক বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, পশ্চিমবঙ্গ এখন পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তাই দোলযাত্রা ও হোলি মিটলেই যেন নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেয়।

শুভেন্দু অধিকারীর এদিনের বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ভোটদান’। তিনি সাফ জানান, ভোটের দিনকে যেন কেউ ‘হলিডে’ বা ছুটির দিন হিসেবে গণ্য না করেন। তাঁর কথায়, “মহারাষ্ট্রে ৫ শতাংশ বেশি ভোট পড়ায় সরকার বদলে গিয়েছে, দিল্লিতে ১০ শতাংশ বেশি ভোটে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাতেও যদি মানুষ ঘরের খেয়ে ভোটের দিন বিপ্লব করতে বেরোন, তবেই এই রাজ্য বাঁচবে।” অর্থাৎ, সাধারণ মানুষকে বুথমুখী করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য, তা শুভেন্দুর কথাতেই স্পষ্ট।

ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে খসড়া তালিকায় বাদ ছিল ৫৮ লক্ষের বেশি, আর চূড়ান্ত তালিকায় নতুন করে বাদ পড়ল ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার জন। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এখনও ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিবেচনাধীন। আমরা চাই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত ভোট হোক।”

বিজেপির অন্দরে তৎপরতা নির্বাচন দোরগোড়ায় আসতেই রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে। সম্প্রতি কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের অতিথি নিবাসে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারেরা। ২৯৪টি আসনের প্রতিটিতে বুথ স্তরের সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর মতে, এবারের লড়াই স্রেফ হার-জিতের নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘ভোট বিপ্লবের’ ডাক আমজনতার মনে কতটা প্রভাব ফেলে।