“সবচেয়ে ভয়াবহ’ হামলা হবে…!”-খামেনেইয়ের মৃত্যু হতেই প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র কি বদলে যেতে চলেছে? ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে খামেনেইর সঙ্গে তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের ডাক দিয়েছেন।
‘ইতিহাসের ভয়ংকরতম অভিযান’— ইরানের হুঁশিয়ারি
খামেনেইর মৃত্যুতে ফুঁসছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। রবিবার টেলিগ্রামে এক বার্তায় তারা ঘোষণা করেছে, সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে। তাদের সাফ কথা, “উম্মাহর ইমামের হত্যার বদলা না নেওয়া পর্যন্ত প্রতিশোধ থামবে না।” ইতিমধ্যেই গালফ অঞ্চলের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য এবার ‘শাসন বদল’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবারের লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করা নয়, বরং ইরানের বর্তমান ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটানো। তিনি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধার করার এটাই সেরা সুযোগ।” একই সুরে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: এক নজরে ক্ষয়ক্ষতি
-
আকাশসীমা বন্ধ: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েল তাদের আকাশপথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বাতিল হয়েছে শত শত আন্তর্জাতিক উড়ান।
-
প্রাণহানি: ইরানের পালটা হামলায় আবু ধাবিতে ২ জন এবং তেল আভিভে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
-
ভিন্ন মাত্রার যুদ্ধ: ইজরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির জানিয়েছেন, এই অভিযান জুন মাসের সংঘর্ষের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ ও ভিন্ন মাত্রার।
বেঁচে আছেন আলি লারিজানি
খামেনেইর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ ইরানের প্রশাসনিক মহলে আশার আলো দেখিয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি। তিনি সুস্থ আছেন এবং প্রতিরোধের ডাক দিয়ে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক অত্যাচারীদের এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা কোনওদিন ভুলবে না।”
তেহরানের আকাশে এখনও শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ। মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নেবে? সেই আশঙ্কায় প্রহর গুনছে দুনিয়া।