নেপালে মহাবিপ্লবের পর ভোট! ওলির সিংহাসন কি ফেরাতে পারবে তরুণ প্রজন্ম?

প্রতিবেশী দেশ নেপালে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ধাঁচেই নেপালে ঘটে গিয়েছে এক বিশাল গণঅভ্যুত্থান, যার জেরে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল কমিউনিস্ট প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ সময় নিলেও, নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান সুশীলা কারকি দেরি করেননি। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৫ মার্চ নেপালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

নেপালের ৩ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার মধ্যে এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক। এই ভোটারদের সিংহভাগই তরুণ প্রজন্ম, যাদের রাজপথের লড়াইয়েই গদি হারিয়েছিলেন ওলি। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে যুবসমাজ ওলিকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়েছিল, কয়েক মাসের ব্যবধানে তারা কি আবার সেই পুরনো মুখকেই বেছে নেবে? না কি নেপালের মসনদে বসবে কোনো নতুন মুখ?

নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার মূল আকর্ষণ তিনটি নাম। প্রথমত, কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র তথা জনপ্রিয় র‍্যাপার ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (RSP) টিকিটে ঝাপা-৫ কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। দ্বিতীয়ত, চারবারের জয়ী প্রার্থী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, যিনি একই কেন্দ্র ঝাপা-৫ থেকে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করছেন। তবে এই দুই মহারথীর লড়াইয়ের মাঝে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে আসছেন নেপালি কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী গগন থাপা। ৬৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ময়দানে থাকলেও নজর কেড়েছে এই ত্রিমুখী লড়াই। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।