কেন খেলা হয় হোলি? অশুভ শক্তি বিনাশের এই মহোৎসবে লুকিয়ে আছে কোন গভীর রহস্য?

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখনই আসে রঙের উৎসব হোলি। সনাতন ধর্মে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আগামী ৩ মার্চ পালিত হবে ‘হোলিকা দহন’ বা নেড়া পোড়ানো এবং তার পরের দিন, অর্থাৎ ৪ মার্চ দেশজুড়ে পালিত হবে বসন্তোৎসব হোলি। এই উৎসব কেবল আনন্দ বা রঙ খেলার নয়, বরং এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্যের জয়ের প্রতীক।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভক্ত প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাঁর পিসি হোলিকা। কিন্তু ভগবানের কৃপায় আগুনে হোলিকা ভস্মীভূত হলেও রক্ষা পান প্রহ্লাদ। সেই থেকেই অশুভকে পুড়িয়ে শুভ শক্তির আবাহন জানাতে পালিত হয় হোলিকা দহন। জ্যোতিষশাস্ত্রমতে, এই সময়ে নবগ্রহ অত্যন্ত উগ্র অবস্থায় থাকে। পণ্ডিতদের দাবি, প্রতিটি রঙের সঙ্গে নির্দিষ্ট গ্রহের যোগসূত্র রয়েছে। হোলির দিন সঠিক রঙ ব্যবহারে গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব দূর হয় এবং মনে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে। ভারতজুড়ে ব্রজধামের লাড্ডুমার হোলি বা লঠমার হোলির মতো বিভিন্ন বৈচিত্র্য থাকলেও, এই উৎসবের মূল সুর হলো সম্প্রীতি এবং ভেষজ রঙের ব্যবহারে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।