পিছন থেকে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে! SIR বিতর্কে মমতার আর্জি খারিজ করে কী কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট?

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল সুপ্রিম কোর্টের আঙিনা। রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ব্যবহার এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের দায়ের করা আপত্তি শুক্রবার পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব খাটানোর যে অভিযোগ রাজ্য তুলছে, তাতে বিন্দুমাত্র সারবত্তা নেই।

আদালতে রাজ্যের অভিযোগ ও কপিল সিব্বলের সওয়াল শুক্রবার রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন আদালতের অগোচরেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের জন্য একটি বিশেষ ‘ট্রেনিং মডিউল’ জারি করেছে। সিব্বলের অভিযোগ ছিল, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধিকারিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোন নথি গ্রহণ করা উচিত আর কোনটি নয়। তাঁর কথায়, “আদালতের নির্দেশের আড়ালে পিছন থেকে অন্য কিছু ঘটছে।”

সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রতিক্রিয়া সিব্বলের এই সওয়ালে বিন্দুমাত্র আমল দেয়নি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি কড়া সুরে জানান, “আমরা আমাদের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ভালো করে চিনি। তাঁরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, এই বিতর্কের এখানেই অবসান হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “আদালতের দেওয়া নির্দেশ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।” বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকার—কেউই আদালতের নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে যেতে পারবে না।

প্রেক্ষাপট ও বিচারকদের নিয়োগ ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে ইতি টানতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকার আপত্তি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ২৫০ জন জেলা বিচারক ও সিভিল জজদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই ভিন রাজ্যের বিচারকদের আনার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল। আদালতের এদিনের নির্দেশের পর নবান্নের সেই শেষ আশাটুকুও ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।