“আঙুল তুললে মুষ্টি দিয়ে জবাব দেব!”-আফগান সেনাপ্রধানের হুঙ্কারে কাঁপছে ইসলামাবাদ?

দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের কালো মেঘ! শুক্রবার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনা এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ নিল। ইসলামাবাদের দোরগোড়ায় ভয়াবহ বিমান হামলা থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানদের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। খোদ পাক প্রধানমন্ত্রীর আবাসন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সেনা ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে আফগান বাহিনী, যা নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি।
“তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোও নিরাপদ নয়”: আফগান সেনাপ্রধান আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিতরত পাকিস্তানকে কার্যত চরমপত্র দিয়েছেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তোমরা যদি আঙুল তোলো, তবে আমরা মুষ্টি তুলে তার জবাব দেব। আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রই আর নিরাপদ থাকবে না।” কাবুলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে তার উত্তর হবে আরও কঠোর ও চূড়ান্ত।
রক্তক্ষয়ী লড়াই: লাশের পাহাড় দু-পক্ষেই! পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা (ISPR) স্বীকার করেছে যে, আফগান হামলায় তাদের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ২৭ জন গুরুতর আহত। তবে পাল্টাদাবিতে পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের অভিযানে ২৭৪ জন আফগান যোদ্ধা নিহত এবং ১৮টি পোস্ট দখল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। তাদের হিসেবে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা খতম হয়েছে। কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের আগের হামলার বদলা নিতেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার।
ইসলামাবাদের ৫ কিমি দূরেই হামলা! শুক্রবার কেবল খাইবার পাখতুনখোয়া বা নওশেরা নয়, খোদ রাজধানীর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে যুদ্ধ। খাইবার পাখতুনখোয়া, জামরুদ এবং অ্যাবোটাবাদ এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। পাক সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র তালিবান সরকারকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ‘প্রক্সি’ হামলা।
জনমনে ক্ষোভ ও যুদ্ধের দামামা আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাকানি খোস্তের এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিশোধের ডাক দিয়েছেন। এরপরই আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম পাক-বিরোধী ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে অনেকেই একে ‘ধর্মযুদ্ধ’ বা জিহাদের নাম দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
নির্বাচনের আগে প্রতিবেশী দুই দেশের এই সংঘাত ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তাতেও প্রভাব ফেলবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।