বাংলা ছবির ‘কঙ্কালসার’ দশা! দর্শক না হওয়ায় দিনে ১০ হাজারও উঠছে না, দেউলিয়া হওয়ার পথে হল মালিকরা!

টলিউডের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে হাহাকার। ভালো ছবির অভাব আর দর্শক খরায় ধুঁকছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, গত বুধবার থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কলকাতার আইকনিক প্রেক্ষাগৃহ ‘প্রিয়া’। তার আগে মঙ্গলবার থেকেই তালা ঝুলেছে ‘বিনোদিনী থিয়েটারে’ও। কার্যত একই পথে হাঁটছে নবীনা এবং বেহালার অশোকা।

কেন এই আকাল? হল মালিকদের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলল ছবির খরা। প্রেক্ষাগৃহে ‘মন মানে না’ কিংবা ‘খাঁচা’র মতো ছবি চললেও দর্শক টানতে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অজন্তা সিনেমা হলের মালিক শতদীপ সাহা থেকে শুরু করে প্রিয়া সিনেমার কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত—সবার মুখেই একই কথা। প্রিয়া সিনেমা হলের মালিকের আক্ষেপ, সারাদিনে টিকিট বিক্রি করে ১০ হাজার টাকাও উঠছে না। অথচ বিদ্যুৎ, এসি এবং কর্মীদের খরচ মিলিয়ে প্রতিদিনের খরচই আকাশছোঁয়া। লোকসান সামলাতে না পেরেই হল বন্ধের সিদ্ধান্ত।

রাজনীতি না কি পরীক্ষার চাপ? হল মালিকদের বক্তব্য, এখন একদিকে পরীক্ষার মরশুম, অন্যদিকে রাজ্যে কড়া নাড়ছে নির্বাচন। তাই এই উত্তাল সময়ে বড় বাজেটের ছবি রিলিজের ঝুঁকি নিচ্ছেন না প্রযোজকরা। সবাই চাইছেন পুজোর সময় বা ছুটির মরশুমে ছবি রিলিজ করতে। ফলে বছরের বাকি সময়টা প্রেক্ষাগৃহগুলি মরুভূমি হয়ে থাকছে।

সিঙ্গল স্ক্রিনের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে? বিনোদিনী থিয়েটারের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় সাফ জানালেন, “সিনেমা হল কোনও দাতব্য চিকিৎসালয় নয়।” দর্শক না এলে দিনের পর দিন হল চালানো অসম্ভব। অন্যদিকে, হিন্দি ছবির পরিবেশকরাও সিঙ্গল স্ক্রিনকে পর্যাপ্ত শো দিতে নারাজ। সব মিলিয়ে টলিউডের প্রযোজক, পরিচালক এবং হল মালিকদের মধ্যে সমন্বয় না ফিরলে এবং দর্শক টানার মতো কনটেন্ট তৈরি না হলে, অচিরেই কলকাতার বুক থেকে মুছে যেতে পারে সিঙ্গল স্ক্রিনের ইতিহাস।