হিমালয়ে বড় বিপদের সংকেত? তিন দিনে বারবার কম্পন সিকিমে, সিসমিক জোন ৬-এর আতঙ্কে উত্তরবঙ্গ!

পাহাড় যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে হাড়কাঁপানো প্রবল তুষারপাত, আর তার মাঝেই টানা তিনদিন ধরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে সিকিম। শুক্রবার ভোরে ফের ৪.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে এই পাহাড়ি রাজ্যে। শুধু সিকিম নয়, এর রেশ পৌঁছেছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়িতেও। বারবার এই কম্পন হিমালয়ের কোলে বড় কোনও বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

১৩ বার কম্পন ও তুষারপাতের দ্বৈত আতঙ্ক প্রশাসন সূত্রে খবর, গত কয়েক ঘণ্টায় সিকিমে অন্তত ১৩ বার ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে যেগুলোর মাত্রা ছিল ৪.৬ পর্যন্ত। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গয়ালশিং-এর ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে। বর্তমানে সিকিমে ব্যাপক তুষারপাত চলছে, যার ফলে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে জনজীবন স্তব্ধ। লাচেন ও লাচুং-এর মতো এলাকায় আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হলেও, বারবার এই কম্পন নতুন করে তুষারধসের আতঙ্ক তৈরি করেছে।

সিসমিক জোন ৬-এর আশঙ্কায় উত্তরবঙ্গ সিকিম আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের একাংশ এখন সিসমিক জোন ৬-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের গভীরে প্লেটের নড়াচড়ার ফলেই এই ধারাবাহিক কম্পন। একবার বড় কম্পনের পর একাধিক ‘আফটারশক’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা আগামী কয়েক দিন সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেবে।

পর্যটক ও স্থানীয়দের সতর্কতা সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের প্রশাসন ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। নেপাল ও অসমের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও এই কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি উসকে দিয়ে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ বার আফটারশক হওয়ার ঘটনাটিও মাথায় রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।