বিধানসভায় হুলুস্থুল! রাজ্যসভা ভোটের সই চলাকালীন প্রবল ভূমিকম্প, আতঙ্কে চত্বর ছাড়লেন মন্ত্রী-বিধায়করা

শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট। রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরে সরগরম ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বর। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে বীরবাহা হাঁসদা— হেভিওয়েটদের উপস্থিতিতে চলছিল রাজনৈতিক তৎপরতা। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো কেঁপে উঠল বিধানসভার ঐতিহাসিক অট্টালিকা। প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের সেই প্রবল কম্পনে কাজ ফেলে যে যেদিকে পারলেন, ছুটলেন খোলা আকাশের নীচে।

বিধানসভার অন্দরের সেই আতঙ্কের মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন খোদ বিধায়করা। তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল জানান, তিনি তখন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ফলতার বিধায়কের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ তাঁর মনে হয় মাথা ঘুরে যাচ্ছে। ভারসাম্য সামলাতে না সামলাতেই দেখেন বিধানসভার কর্মীরা চিৎকার করতে করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। একই অভিজ্ঞতা বিধায়ক করবী মান্নারও। সোফায় বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎই দেখেন সব নড়তে শুরু করেছে। জীবনে প্রথমবার এমন তীব্র কম্পনের সাক্ষী হয়ে তিনি কার্যত বাকরুদ্ধ।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। তিনি তখন মা ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে বিধানসভায় আসছিলেন। চলন্ত গাড়ির চালক হঠাৎই চিৎকার করে ওঠেন। বিধায়কের কথায়, “সেতুর ওপরে থাকায় মনে হচ্ছিল এই বুঝি সব ভেঙে পড়ল। মা ফ্লাইওভারের ওপর ওই দুলুনি সত্যিই ভয়ঙ্কর।” বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও জানান, ঝাড়গ্রামে থাকা তাঁর ছোট বোন ফোন করে জানান যে খাটের ওপর বসে থাকাকালীনই সব কাঁপতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরার এই কম্পনের উৎসস্থল হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে।