৫.৪ তীব্রতার কাঁপুনিতে ফিরল আতঙ্ক! জোন-৩ থেকে জোন-৫— পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলা কত নম্বর বিপদে?

শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আচমকা কেঁপে উঠল কলকাতা। রিখটার স্কেলে ৫.৪ তীব্রতার এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, যা কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও কম দূরে। মাত্র এক মিনিটের কম্পন বুঝিয়ে দিল, গাঙ্গেয় বদ্বীপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শহর কতটা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

কলকাতা কেন বেশি কাঁপছে? ভূ-তাত্ত্বিক মানচিত্র অনুযায়ী, কলকাতা বর্তমানে ‘ভূকম্পীয় অঞ্চল-III’ বা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পড়ে। কিন্তু আসল বিপদ লুকিয়ে আছে শহরের মাটির গভীরে। কলকাতা মূলত গঙ্গা বদ্বীপের নরম পলি ও দোআঁশ মাটির ওপর অবস্থিত। ফলে দূরবর্তী কোনও উৎস থেকে কম্পন এলে এই নরম মাটি সেই তরঙ্গকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার স্থাপত্যগত দুর্বলতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার পুরনো জীর্ণ ভবন এবং দক্ষিণ কলকাতার ঘনবসতিপূর্ণ বহুতলগুলি বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সল্টলেক বা নিউটাউনের নতুন ভবনগুলি আধুনিক প্রযুক্তি মেনে তৈরি হলেও, পুরনো শহরের হাজার হাজার বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক ঝুঁকির তালিকা: ভারতের ভূকম্পীয় মানচিত্র অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়েছে:

  • জোন-V (চরম ঝুঁকি): জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের পূর্ব অংশ। এখানে কম্পনের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

  • জোন-IV (উচ্চ ঝুঁকি): দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

  • জোন-III (মাঝারি ঝুঁকি): কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই পুরো করিডরটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের সক্রিয় ‘ফল্ট লাইন’ বা চ্যুতিরেখাগুলি কলকাতার এত কাছে যে, সীমান্তে সামান্য নড়াচড়াতেও তিলোত্তমা বড়সড় নাড়া খাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ বড় ভূমিকম্প না হলেও মাঝারি কম্পনেই শহরটি ধসে পড়ার ক্ষমতা রাখে।