প্রিয়জনকে হারানোর ভয় বা চাকরি যাওয়ার আতঙ্ক? ‘Ideas of India’ মঞ্চে মহৌষধ দিলেন গৌরাঙ্গ দাস

চাকরি হারানোর আশঙ্কা হোক কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর গভীর বেদনা—ভয় মানুষের চিরকালীন সঙ্গী। বর্তমানের এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে দাঁড়িয়ে কীভাবে নিজেকে ভারমুক্ত এবং দুশ্চিন্তাহীন রাখা যায়? এই কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর দিলেন ইসকন-এর গোবর্ধন ইকোভিলেজের ডিরেক্টর গৌরাঙ্গ দাস। মুম্বইতে আয়োজিত এবিপি নেটওয়ার্কের ‘Ideas of India’ ২০২৬-এর মেগা কনক্লেভে এসে তিনি শোনালেন তাঁর জীবনের এক রোমাঞ্চকর ও অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী।
আইআইটির মেধাবী ছাত্র থেকে কৃষ্ণভক্তির পথে আসার যাত্রাটা গৌরাঙ্গ দাসের জন্য সহজ ছিল না। ২২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওই দুর্ঘটনা থেকে যখন ফিরেছি, তখনই ঠিক করেছিলাম বাকি জীবনটা মানবসেবায় উৎসর্গ করব। শারীরিক কষ্টের চিকিৎসার জন্য যেমন হাসপাতালের প্রয়োজন, ঠিক তেমনই মনের যন্ত্রণা ও অবসাদ মোচনের জন্য প্রয়োজন মন্দিরের। মন্দির আসলে মনের হাসপাতাল।” তিনি আরও যোগ করেন যে, গীতাই হলো মানুষের জীবনের সেই গাইডবুক যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অভয় দান করে।
আধুনিক জীবনে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মূল কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “বাস্তব পরিস্থিতি আর প্রত্যাশার মধ্যে যখন বিশাল ফারাক তৈরি হয়, তখনই জন্ম নেয় মানসিক চাপ।” অর্জুনের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝান যে, চরম বিষাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো ‘গীতা’। তাঁর মতে, শ্রীকৃষ্ণের সেই অমোঘ বাণী কেবল ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এক শক্তিশালী ‘অ্যান্টিডিপ্রেশন’ টুল। ফলের আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে কর্ম করে যাওয়ার মাধ্যমেই সমস্ত ভয় জয় করা সম্ভব। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “মাটি থেকে কোনো বাড়িকে বিশাল মনে হলেও বিমান থেকে দেখলে তা অনেক ছোট মনে হয়। অর্থাৎ সমস্যার গুরুত্ব নির্ভর করে আমরা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে তা দেখছি তার ওপর।”