রাম না জন্মাতেই রামায়ণ পাণ্ডবেশ্বরে! তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই দেওয়ালে নরেন্দ্রনাথের নাম

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। অথচ তার আগেই পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে শুরু হয়ে গেল দেওয়াল লিখন। পাণ্ডবেশ্বরের কেন্দ্রা অঞ্চলে বর্তমান বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে দেওয়াল জুড়ে জ্বলজ্বল করতে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল যে, দলের তরফে সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তির নামে প্রচার চালানো যাবে না। সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রা অঞ্চলে যমুনা ধীবরের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা ‘নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে প্রার্থী চাই’ স্লোগানে দেওয়াল লিখন শুরু করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অবশ্য দায় ঠেলেছেন কর্মীদের ওপর। তিনি বলেন, “ওরা ভুল করছে। আমি ওদের বলেছি ব্যক্তিনির্ভর দেওয়াল লিখন বন্ধ করতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে টিকিট দেবেন, তিনিই প্রার্থী হবেন।” তবে বিরোধীরা এই সাফাই মানতে নারাজ। এই ঘটনায় পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। জিতেন্দ্রর কটাক্ষ, “যাঁরা মানুষের হৃদয়ে নাম লিখতে পারেননি, তাঁদেরই দেওয়াল দখল করার এত তাড়া থাকে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রটি এবারও ‘হাই-ভোল্টেজ’ হতে চলেছে। ২০২১-এ জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে হারিয়েছিলেন নরেন্দ্রনাথ। এবারও কি সেই পুরনো লড়াই দেখা যাবে? কর্মীদের এই আগাম দেওয়াল লিখন কি আসলে টিকিট পাওয়ার জন্য দলের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি? উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তৃণমূলের অন্দরেও এই শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এখন দেখার, দেওয়ালের এই লিখনই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পায় কি না।