এলাকা ‘অতি স্পর্শকাতর’, আরও ২৩ কোম্পানি বাহিনী ঢুকছে মুর্শিদাবাদে; ভোটারদের আশ্বস্ত করতে রুট মার্চ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুক্রবার থেকেই জেলার সুতি ও সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় পুরোদমে রুট মার্চ শুরু করেছেন জওয়ানরা। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা সূত্রে খবর, এলাকাগুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ার কারণেই আগাম সর্তকতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদী রেহমান জানান, সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেখানে আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। এবার সেই বাহিনীকেই রুট মার্চের কাজে লাগানো হচ্ছে। বেলডাঙা, শক্তিপুর এবং রেজিনগরের মতো এলাকাগুলিতে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অশান্তির খবর মেলে, তাই সেসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় ১৬ কোম্পানি বাহিনী থাকলেও, জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর— শনিবার আরও ১১ কোম্পানি এবং আগামী ১০ মার্চ আরও ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলায় ঢুকছে।
তবে এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকা। জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারায় এবং স্থানান্তর বা মৃত্যুর কারণে প্রায় ৩ লক্ষ নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বর্তমানে আরও ১১ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই চলছে। তালিকা প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা বিভাগ। সেই সঙ্গেই রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সমস্যা। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় দূর করতে এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে মার্চ মাসের শুরু থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলা কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুর্গে পরিণত হতে চলেছে।