সরকারি কর্মীদের মার্চ মাসের বেতন নিয়ে নবান্নের বড় ঘোষণা! জারি হলো কড়া ডেডলাইন, মিস করলেই বিপদ

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের একদম শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর। বছরের শেষে ট্রেজারি এবং পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসগুলিতে কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ কমাতে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে নবান্ন। ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO)-দের জন্য একগুচ্ছ সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।

বেতন ও পেনশন কবে মিলবে?
সরকারি কর্মীদের সবথেকে বড় চিন্তার অবসান ঘটিয়ে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী, লাইব্রেরি এবং পঞ্চায়েত কর্মীদের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের বেতন প্রদান করা হবে আগামী ০২.০৪.২০২৬ তারিখে। একইভাবে, পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টেও পেনশনের টাকা ২ এপ্রিল জমা পড়বে। যারা মাসিক পারিশ্রমিক বা সাম্মানিক পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ট্রেজারিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩০ মার্চের মধ্যে চেক বা পেমেন্ট ম্যান্ডেট তৈরি রাখতে, তবে ২ এপ্রিলের আগে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যাবে না।

বিল জমা দেওয়ার কড়া ডেডলাইন:
কাজের চাপ সামলাতে বিল পাসের ক্ষেত্রে তারিখ ভাগ করে দিয়েছে অর্থ দপ্তর:

২৩ মার্চ: মার্চ মাসের বেতন, মজুরি এবং গ্রান্ট-ইন-এইড স্যালারি বিল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।

১৮ মার্চ: বকেয়া বেতন (Arrear), ব্যক্তিগত দাবি এবং রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের বিল জমা দিতে হবে।

১৩, ২৪ ও ৩০ মার্চ: যাত্রার সময়ের ওপর ভিত্তি করে টিএ (TA) বিল জমার সময়সীমা।

২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ: স্যাংশন অর্ডারের তারিখ অনুযায়ী অন্যান্য বিল জমা দিতে হবে।

সিস্টেম নিয়ে কড়া সতর্কতা:
অর্থ দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, অর্থবর্ষের শেষে সিস্টেমে অটোমেটিক রেস্ট্রিকশন বা স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ চালু থাকবে। ৩০ মার্চ বিকেল ৪টের পর সিস্টেম কোনো নতুন বিল গ্রহণ করবে না। এমনকি কোনো অবজেকশন থাকা বিল পুনরায় জমা দেওয়ার শেষ সময়ও ৩০ মার্চ বিকেল ৪টে পর্যন্ত। এই নির্দেশিকা অমান্য করলে বা কাজ ফেলে রাখলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সমস্যায় পড়বেন এবং বিল পাস করানো সম্ভব হবে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।