নবান্ন অভিযানে বাধা, এবার সরাসরি বনধের ডাক! ডিএ ইস্যুতে ১৩ মার্চ স্তব্ধ হতে পারে রাজ্য

বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মচারীদের সংঘাত এবার নজিরবিহীন মোড় নিল। বৃহস্পতিবার ডিএ-র দাবিতে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর কালীঘাট অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাজরা মোড়। পুলিশের কড়া ব্যারিকেড আর অনুমতির গেরোয় আন্দোলনকারীরা থমকে গেলেও, লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তাঁরা। বরং পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ‘পূর্ণ ধর্মঘটের’ ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের ওপর প্রবল চাপ:
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই মেটাতে হবে। তার মধ্যে ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাকি টাকা মেটানোর রূপরেখা তৈরির জন্য ৬ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু সময়সীমা পার হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েও প্রশাসনের তরফে কোনও সদর্থক সাড়া না মেলায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কর্মচারীদের মধ্যে। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হলেও তার উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ।

সুপ্রিম কোর্ট বনাম রাজ্য আইন:
বিক্ষোভ চলাকালীন রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “সারা ভারতবর্ষ সুপ্রিম কোর্টের আইন মেনে চলে, কিন্তু এই রাজ্যে আইন কেবল একজনের নির্দেশেই চলে। এই রাজ্যে একটাই কোর্ট, সেই কোর্ট হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, এতদিন সেমিফাইনাল চলছিল, এবার ১৩ মার্চ ‘ফাইনাল খেলা’ হবে।

১৩ মার্চের কর্মসূচী:
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্য প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখাচ্ছে। এই অবস্থায় রাজপথে আন্দোলন তীব্র করার পাশাপাশি ফের সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করার পথে হাঁটছেন তাঁরা। ১৩ মার্চের এই ধর্মঘট সফল হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে অসহ্য গরমের দাপট, অন্যদিকে বকেয়া পাওনার দাবিতে উত্তপ্ত রাজপথ—সব মিলিয়ে মার্চ মাসের শুরুতেই চরম অস্বস্তিতে নবান্ন।