মধ্যরাতে রণক্ষেত্র পাক-আফগান সীমান্ত! পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইকে খতম বহু তালিবান, চরম উত্তেজনায় কাঁপছে দুই দেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা! দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এবার প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ নিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে শুরু করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে ভয়াবহ এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে পাকিস্তান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষেই ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়বার তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর থেকে এটিই দু’দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ:
ঘটনার সূত্রপাত আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর। আফগান সীমান্ত রক্ষী বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক সেনা চৌকি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে পাক বায়ুসেনা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে এয়ারস্ট্রাইক শুরু করে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের হামলায় বহু তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পাল্টা দাবি, তাদের আক্রমণে একাধিক পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে।
যুদ্ধের হুমকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ:
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ আমাদের সেনাবাহিনী চূড়ান্ত জবাব দিচ্ছে। অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। এবার খুল্লামখুল্লা যুদ্ধ হবে।” পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই-ও। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সেনারা সাহসের সঙ্গে এই আগ্রাসনের জবাব দিয়ে মাতৃভূমি রক্ষা করবে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কাবুল ও ইসলামাবাদের বিদেশমন্ত্রীদের প্রতি আলোচনার মাধ্যমে সংকট মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তোরখাম সীমান্তে শরণার্থী আতঙ্ক:
উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে দুই দেশের সীমান্তে ব্যাপক সেনা মোতায়েন লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য তোরখাম সীমান্ত খুলে দেওয়া হলেও সেখানেও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে খবর। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক আফগান সেনা সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বড়সড় হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।