নির্বাচনের আগেই কি পকেটে ঢুকবে ‘যুবসাথী’র টাকা? নবান্নের ঘোষণায় বড়সড় মোড়!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ড্রিম প্রজেক্ট নিয়ে জেলায় জেলায় এখন তুঙ্গে উন্মাদনা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফর্ম বিলি শুরু হতেই প্রতিটি ব্লকের সরকারি ক্যাম্পগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মহীনদের মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি ঘিরে যখন আশার আলো দেখছেন লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠছে—টাকা কি আদেও ১ এপ্রিল থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে?
নবান্নের ঘোষণা বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা:
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেটে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করার সময় জানিয়েছিলেন, এটি ১৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তবে পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট সেই হিসেবে জল ঢেলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভোটের নির্ঘণ্ট ও আদর্শ আচরণবিধি:
প্রশাসনের একাংশের মতে, মার্চ মাসের শুরুতেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঘোষণা করা মাত্রই রাজ্যে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) চালু হয়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, এই সময় কোনো নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা বা সরাসরি টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো যায় না। ফলে ১ এপ্রিল টাকা দেওয়ার যে পরিকল্পনা নবান্ন করেছিল, তা আইনি জটিলতায় আটকে যেতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভোটের আগে টাকা দেওয়া সম্ভব না-ও হয়, তবুও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পটি শাসকদলের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তবে সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন নবান্নের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। প্রশাসনিক মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই হয়তো পূর্ণাঙ্গভাবে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হবে। আপাতত ফর্ম জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও, এপ্রিলের শুরুতেই টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।