পাক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল তালিবান? ৫৫ সেনার মৃত্যুতে রণক্ষেত্র আফগান সীমান্ত, শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ!

সীমান্তে শান্ত হওয়ার বদলে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হল। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এয়ারস্ট্রাইকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধ্বংসী বদলা নিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ডুরান্ড লাইন। দাবি করা হচ্ছে, তালিবানি হানায় ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের ১৯টি সেনা পোস্ট এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৫ জন পাক সেনা।

আকাশে হারাল পাক যুদ্ধবিমান? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করেছে আফগান সংবাদমাধ্যম ‘টোলো নিউজ’। তাদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তানের একটি F-16 যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে তালিবান বাহিনী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ভাইরাল হলেও, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নেটিজেনদের একাংশ আবার ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে পুরনো বলে দাবি করেছেন।

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের খতিয়ান: শুক্রবার ভোরে কাবুলের আকাশে অন্তত তিনটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আফগান প্রতিরক্ষা দফতরের দাবি, মাত্র ৪ ঘণ্টার ঝোড়ো অভিযানে তারা পাক সেনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ৫৫ জন সেনার মৃত্যুর পাশাপাশি বেশ কিছু পাক জওয়ানকে জীবিত বন্দি করার দাবিও করেছে কাবুল। অন্যদিকে, পাকিস্তানের হানায় ৮ জন তালিব যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে খবর।

খাজা আসিফের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ ও শেহবাজের হুঁশিয়ারি: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় যখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি তালিবানদের বিরুদ্ধে রণংদেহি মনোভাব প্রকাশ করেন। এর জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও আপস করা হবে না। যে কোনও বহিরাগত আগ্রাসন দমনে পাক সেনা সম্পূর্ণ সক্ষম।”

আশঙ্কার মেঘ তুঙ্গে: কোভিড পরবর্তী টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই যুদ্ধ সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দুই দেশের এই অদৃশ্য লড়াই এখন আর শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।