সুড়ঙ্গে কারেন্ট গেলেও থামবে না মেট্রো! যাত্রী-দুর্ভোগ কমাতে কলকাতায় দেশের প্রথম ‘ম্যাজিক’ প্রযুক্তি!

তিলোত্তমায় মেট্রো যাত্রীদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। মাঝ-সুড়ঙ্গে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক এবার অতীত হতে চলেছে। দেশের প্রথম মেট্রো পরিষেবা হিসেবে কলকাতা মেট্রোর ‘ব্লু লাইন’ (দক্ষিণেশ্বর-কবি সুভাষ) যুক্ত হলো এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে, যার নাম Battery Energy Storage System (BESS)। এখন থেকে পাওয়ার কাট বা গ্রিড ফেল করলেও সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকতে হবে না যাত্রীদের; বরং ব্যাটারি ব্যাকআপের সাহায্যেই রেক পৌঁছে যাবে পরবর্তী স্টেশনে।
কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার সুব্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল সাব-স্টেশনে ৬.৪ মেগাওয়াট ঘণ্টার এই বিইএসএস (BESS) ব্যবস্থা সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এটি দেশের কোনো মেট্রো স্টেশনে স্থাপিত প্রথম ‘মাইক্রোগ্রিড সিস্টেম’।
কেমন এই নয়া প্রযুক্তি? এই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত মানের লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি এবং ইনভার্টার। যদি কোনো কারণে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে এই ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেট্রোর রেকে সরবরাহ করা হবে। এতে ট্রেনটি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার গতিতে অনায়াসেই পরের স্টেশনে পৌঁছে যেতে পারবে। শুধু তাই নয়, এই সঞ্চিত বিদ্যুৎ দিয়ে সুড়ঙ্গের ভিতরের ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থাও সচল রাখা যাবে, ফলে যাত্রীদের শ্বাসকষ্ট বা গরমে ভোগার ভয় থাকবে না।
কেন এই উদ্যোগ? গত জানুয়ারি মাসেই মাঝ-সুড়ঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে যাত্রীদের লাইনের উপর দিয়ে হাঁটিয়ে বের করতে হয়েছিল। ব্লু লাইনে এহেন বিভ্রাট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই দুর্ভোগ চিরতরে মেটাতেই এই ৪ মেগাওয়াট বিইএসএস প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরিবেশবান্ধব এই গ্রিন ব্যাটারি সিস্টেম টানা ১৪ বছর পর্যন্ত পরিষেবা দিতে সক্ষম।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দমদম থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার পর্যন্ত অংশটি এই ব্যবস্থার আওতায় থাকছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন অতিরিক্ত শক্তিকেও সঞ্চয় করে রাখা যায়। এটি কেবল যাত্রী নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং বিদ্যুতের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।