‘বাহুবলীদের তোয়াজ করলে কপালে দুঃখ আছে’, হাওড়া শ্যুটআউটে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়!

হাওড়ায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত অধরা, ঠিক তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সখ্যতার একাধিক ভিডিও ও ছবি। এই ‘শাসক-যোগ’ নিয়ে যখন চারদিকে ছিছিক্কার, তখন খোদ নিজের দলের নেতাদেরই সতর্ক করলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর সাফ কথা, “বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে কপালে দুঃখ আছে।”

ভোটের মুখে কলকাতা থেকে হাওড়া— যেভাবে দুষ্কৃতী তাণ্ডব বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে কাঁকুলিয়ায় সোনা পাপ্পু থেকে হাওড়ার হারুন খান, প্রতি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে সৌগত রায় বলেন, “আমি বাহুবলীদের ওপর ভরসা করি না। তারা ভোটে কোনো কাজে লাগে না। আমি কখনও বাহুবলীদের গাড়িতে তুলি না বা তাদের সাথে ঘুরি না। রাজনীতিবিদরা এই সহজ সত্যিটা না বুঝলে বিপদ বাড়বে।” তাঁর মতে, বাহুবলীরা যেদিকে থাকে, সাধারণ মানুষ তার বিপরীত দিকে যায়।

হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পিছনে বসে থাকা হারুন খানের ভিডিও নিয়ে বিজেপি যখন আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন সৌগত রায়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষীয়ান এই নেতার দাবি, সুবিধাবাদের রাজনীতি শেষ হওয়া দরকার এবং সিভিল সোসাইটির স্বার্থে এখনই এই অপরাধীদের রাশ টানা উচিত। শাসক দলের অন্দরেই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষায় এই ‘বাহুবলী’ নেতাদের বিরুদ্ধে কি কড়া পদক্ষেপ নেবে তৃণমূল নেতৃত্ব?