‘বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারী তাড়াব’, বিহারের মাটি থেকে বঙ্গ জয়ের হুঙ্কার অমিত শাহের!

বিহারের মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের রণহুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপিই সরকার গড়বে—এই আত্মবিশ্বাস উসকে দিয়ে শাহ সাফ জানালেন, ক্ষমতায় এলেই তাঁদের প্রথম কাজ হবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা। বৃহস্পতিবার নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারের আরারিয়া জেলায় এক জনসভায় রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

অমিত শাহের দাবি, অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস (Demography) আমূল বদলে গিয়েছে, যা দেশের সুরক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “আমি বিহারের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভারত থেকে বের করব। এবার সময় এসেছে গোটা সীমান্ত অঞ্চলকে অনুপ্রবেশ মুক্ত করার। বাংলায় ভোট আসন্ন, সেখানে বিজেপি সরকার গড়লেই প্রথম এজেন্ডা হবে এক এক করে সব অনুপ্রবেশকারীকে বেছে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া।” শাহের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল মুখপাত্র তণ্ময় ঘোষ বলেন, “অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব বিএসএফ-এর, যা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। যদি অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার ব্যর্থতার দায় নিয়ে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন আগেও দেখেছেন তিনি, বাংলা বিজেপির ছিল না আর হবেও না।”

সূত্রের খবর, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহেই বঙ্গে ভোটের দামামা বাজতে পারে। তার আগে এই অনুপ্রবেশ ইস্যু যে প্রচারের মূল অস্ত্র হতে চলেছে, তা শাহের আরারিয়ার সভা থেকেই স্পষ্ট। একদিকে যখন বিজেপি এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরব, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা বিএসএফ-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন। ভোটমুখী বাংলায় এখন অনুপ্রবেশ আর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে যুযুধান দুই পক্ষ।