ফের ফিরছে উত্তরের ‘কোহিনূর’! জলদাপাড়ার সেই অভিশপ্ত আগুনের স্মৃতি মুছে ডানা মেলছে নতুন হলং বাংলো।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে ফের ফিরছে তার হারানো মুকুট। ২০২৪ সালের সেই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত মুছে ফেলে নতুন করে প্রাণ পেতে চলেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ঐতিহাসিক হলং বন বাংলো। বুধবার তিলোত্তমার ভবানীপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই স্বপ্নের বাংলোর পুনর্নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ খ্যাত এই বাংলোর কাজ শুরু হওয়ার খবরে খুশির হাওয়া বইছে পর্যটক থেকে শুরু করে বন দফতর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

অভিশপ্ত সেই রাত ও হলং-এর স্মৃতি: ১৯৬৭ সালে নির্মিত কাঠের এই সুদৃশ্য বাংলোটি ছিল প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক আবেগের নাম। দেশ-বিদেশের পর্যটক তো বটেই, বহু দিকপাল ব্যক্তিত্বের স্মৃতি বিজড়িত ছিল এই আট কামরার বাংলোটি। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতের এক ভয়াবহ শর্ট সার্কিট নিমেষের মধ্যে ছাই করে দেয় ডুয়ার্সের এই গর্বকে। তারপর থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী বাংলোটিকে পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠতে থাকে।

নতুন রূপে হলং: সুরক্ষা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ থেকে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে নতুন এই ভবন। তবে এবারের নির্মাণে নিরাপত্তার ওপর দেওয়া হয়েছে বিশেষ জোর। পুরনো বাংলোটি পুরোপুরি কাঠের হলেও, নতুন বাংলোটির মূল কাঠামো হবে মজবুত কংক্রিটের, যাতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে পর্যটকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে কংক্রিটের কাঠামোর ওপর করা হবে ‘উডেন ক্ল্যাডিং’। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকবে না যে এটি কংক্রিটের তৈরি। অন্দরমহলে থাকবে পাইন কাঠের কারুকার্য এবং বাইরের দেওয়ালে থাকবে উন্নতমানের সেগুন কাঠের আচ্ছাদন।