SIR অভিযানে বিচারপতির কলমে এখন ভোটার তালিকা সংশোধন, বিচার পেতে কালঘাম ছুটছে সাধারণের

বিচার পাওয়ার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষগুলোর চোখে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। এজলাসে বিচারক নেই, কারণ তাঁরা এখন ব্যস্ত ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান বা ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের জেলা আদালতগুলির বিচারকদের মাঠে নামতে হয়েছে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা যাচাই করতে। আর এর জেরেই হুগলির চুঁচুড়া থেকে বর্ধমান কিংবা উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি— সর্বত্রই আদালতের স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত থমকে গিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় চিত্রটি ভয়াবহ। জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই বিপুল নথিপত্র যাচাইয়ের কাজে জেলা জজ ছাড়াও ৫ জন অতিরিক্ত জেলা বিচারক (ADJ) এবং সমমর্যাদার আরও ৩ জন বিচারক যুক্ত হয়েছেন। এক একজন বিচারককে ২ থেকে ৩টি বিধানসভার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে এজলাসে মামলার শুনানি করার সময় পাচ্ছেন না তাঁরা। রায়না থেকে আসা আমিনা বেগম (নাম পরিবর্তিত) ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কদিন ধরে ঘুরছি, বিচারক নেই। আমাদের মতো গরিব মানুষের হয়রানি কে দেখবে?”
একই অবস্থা হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও। জেলা জজ ও এডিজে-রা এসআইআর কাজে ব্যস্ত থাকায় অধিকাংশ কোর্টরুমে কাজ বন্ধ। অন্যদিকে, জলপাইগুড়িতে খোদ জেলা বিচারক সার্কিট হাউসে ক্যাম্প করে ফাইল যাচাই করছেন। বিডিও অফিস থেকে আধিকারিকরা ফাইলের স্তূপ পৌঁছে দিচ্ছেন সেখানে। আইনজীবীদের একাংশের দাবি, এমনিতেই বিচারক কম, তার ওপর এই বাড়তি কাজের চাপে বিচারপ্রার্থীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সদন তা জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপি ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপকে ‘ভুয়ো ভোটার’ রোখার হাতিয়ার হিসেবে স্বাগত জানালেও, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা আদালতের কাজ ব্যাহত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠছে— ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে কি সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে? সাধারণ মানুষ এখন একটাই উত্তর খুঁজছেন— কবে ফিরবে আদালতের স্বাভাবিক ছন্দ?